প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমেছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। টানা পাঁচ বছর ধারাবাহিক বৃদ্ধির পর এটি ছিল উন্নয়ন সহায়তায় প্রথম পতন। খবর আনাদোলু।
ওইসিডির ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স কমিটির (ডিএসি) সদস্যরা ২০২৪ সালে মোট ২১ হাজার ২১০ কোটি ডলার আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়েছে, যা দেশগুলোর সম্মিলিত মোট জাতীয় আয় বা জিএনআইয়ের দশমিক ৩৩ শতাংশের সমতুল্য।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমার বিস্তারিত উল্লেখ করেছে ওইসিডি। সেখানে বলা হচ্ছে, গত বছর অনুদান হ্রাসের কারণে ইউক্রেন কম সহায়তা পেয়েছে। খরচ কমেছে মানবিক সহায়তা ও শরণার্থী ব্যবস্থাপনায়।
২০২৩ সালের তুলনায় ইউক্রেনে গত বছর সহায়তা ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার, যা ডিএসির মোট সহায়তার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া মানবিক সহায়তা প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে হয়েছে ২ হাজার ৪২০ কোটি ডলার।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় দাতা দেশগুলোর অভ্যন্তরে শরণার্থী খরচের জন্য ব্যবহৃত ওডিএ ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার, যা ডিএসি সদস্য দেশগুলোর মোট ওডিএর ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এটি ২০২৩ সালে ছিল ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অবশ্য শীর্ষ পাঁচটি দেশের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ শরণার্থী ব্যয় এখনো তাদের মোট ওডিএর এক-চতুর্থাংশের বেশি।
২০২৪ সালের সর্ববৃহৎ দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে, যা মোট ওডিএর ৩০ শতাংশ। এরপর ছিল জার্মানি (৩ হাজার ২৪০ কোটি ডলার), যুক্তরাজ্য (১ হাজার ৮০০ কোটি), জাপান (১ হাজার ৬৮০ কোটি) ও ফ্রান্স (১ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার)।
এ বিষয়ে ডিএসির প্রধান কারস্টেন স্টাউর বলেন, ‘টানা পাঁচ বছর বাড়ার পর ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া দুঃখজনক। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো কয়েকটি বড় দাতা দেশ আগামী বছরগুলোয় সহায়তা আরো বড় ধরনের কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছে।’